আরিফ হোসেনVIEW PROFILE →
খরচ থেকে সক্ষমতার দিকে: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উত্থান
২০২৬ সালে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি বড় লাফ দিয়েছে,আইটি রপ্তানি প্রায় ৮৪ কোটি ডলার, দশ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার এবং নতুন সরকারি অবকাঠামো। প্রবৃদ্ধি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ।
বছরের পর বছর প্রযুক্তি খাত অনুসরণ করে আমি শিখেছি, চটকদার শিরোনামের চেয়ে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যা ঘটছে, তা ঠিক এমনই একটি বিষয়। এখানে কোনো একক ঘোষণা নয়, বরং একটি বিস্তৃত রূপান্তর ঘটছে—দেশটি ধীরে ধীরে বিশ্ব প্রযুক্তি মানচিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
রপ্তানির উল্লম্ফন
প্রথমে সামগ্রিক চিত্রটি দেখা যাক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সফটওয়্যার ও আইটি সেবা থেকে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার আয় করেছে, যা ২০০৮ সালের মাত্র ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় চল্লিশ গুণ বেশি। বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যারা ৮০টিরও বেশি দেশে সেবা রপ্তানি করছে। এই বৃদ্ধি সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
দক্ষ জনশক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং
এই অর্জনের পেছনে রয়েছে বিশাল জনশক্তি। খাতটিতে সাড়ে সাত লাখের বেশি দক্ষ পেশাজীবী যুক্ত রয়েছেন। এর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং খাতে বাংলাদেশ এক বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সক্রিয় ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এই আউটসোর্সিং সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটি ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
সরকারি অবকাঠামো
রাষ্ট্রীয় সহায়তাও এই গতিকে সমর্থন দিচ্ছে। সরকার এ পর্যন্ত ২৮টি আইটি পার্ক গড়ে তুলেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি জাতীয় ডেটা সেন্টার জিপিইউ ক্লাউড চালু করেছে। পাশাপাশি সফটওয়্যার রপ্তানির ওপর পূর্ণ আয়কর অব্যাহতি এবং পণ্যের ওপর ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানিকে উৎসাহিত করার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
খরচ বনাম সক্ষমতা
তবে সব কিছু নিখুঁত নয়। বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এখনো সক্ষমতার বদলে কম খরচের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করছে। উচ্চতর মূল্য সংযোজনের দিকে যেতে হলে গভীর ডিজিটাল সাক্ষরতা, কারিগরি শিক্ষায় উন্নতি এবং সময় প্রয়োজন। এই রূপান্তর ছাড়া কেবল সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হবে বলেই আমি মনে করি।
আমার ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি
এত অগ্রগতির মধ্যেও আমি অতিরিক্ত আশাবাদ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখি। রপ্তানির অঙ্ক আর ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা চিত্তাকর্ষক হলেও, প্রকৃত পরীক্ষা হলো এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও গুণগত মানসম্পন্ন করে তোলা। তবু সামগ্রিক দিকটিকে আমি স্বাস্থ্যকর মনে করি, কারণ বাংলাদেশ একটি বাস্তব ডিজিটাল ভিত্তি গড়ে তুলছে। আসল চ্যালেঞ্জ হবে খরচের সুবিধা থেকে দক্ষতার শ্রেষ্ঠত্বে রূপান্তর।






