আরিফ হোসেনVIEW PROFILE →
বাংলাদেশের ডিজিটাল উত্থান: স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর তরুণদের হাত ধরে নতুন অর্থনীতি
তরুণ জনগোষ্ঠী, ফ্রিল্যান্সিং আর প্রযুক্তির হাত ধরে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপ নিচ্ছে। এই রূপান্তরের সম্ভাবনা আর চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হলো।
একসময় প্রধানত কৃষি আর তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ আজ ধীরে ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে একটি নতুন পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর সেই পরিচয় হলো একটি ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
এই রূপান্তরের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, যারা প্রযুক্তির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে এবং নতুন সুযোগের সন্ধানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকে বলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে।
স্টার্টআপের নতুন জোয়ার
গত কয়েক বছরে দেশে একের পর এক স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে, যেগুলো পরিবহন, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্য কিংবা কৃষির মতো নানা খাতে দৈনন্দিন সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে আসছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুলছে।
বিশেষ করে মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা বা ডিজিটাল লেনদেন এমন এক বিপ্লব ঘটিয়েছে, যার ফলে ব্যাংকের বাইরে থাকা কোটি কোটি মানুষ এখন খুব সহজেই টাকা পাঠাতে, গ্রহণ করতে এবং নিরাপদে সঞ্চয় করতে পারছে।
তবে এই স্টার্টআপগুলোর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়, কারণ পর্যাপ্ত বিনিয়োগ জোগাড় করা, দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়া এবং টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা আজও অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তরুণ প্রজন্মই মূল শক্তি

স্টার্টআপের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্ত পেশা বাংলাদেশের তরুণদের কাছে আয়ের এক জনপ্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই বিশ্বের নানা প্রান্তের ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
এই খাতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় জোগানদাতা দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, আর এটি কেবল ব্যক্তিগত আয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও তরুণদের মধ্যে আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এবং অনেকেই এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন সেবা তৈরি করতে কিংবা নিজেদের দক্ষতা আরও শাণিত করে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন।
সম্ভাবনার সঙ্গে বাস্তবতা
তবে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতাও রয়েছে, কারণ নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ঘাটতি এখনো দেশের অনেক অঞ্চলে উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে আছে।
একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তোলা এবং তরুণদের যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, নইলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা রয়ে যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সঠিক নীতি, বিনিয়োগ আর তরুণদের উদ্যমকে কাজে লাগাতে পারলে দেশটি আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে।






